অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার পটভূমি
সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি আর্থ ব্যবস্থাপনার (পিএফএম) সংস্কার অপরিহার্য। সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সুশাসন শক্তিশালীকরণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা সংস্কারমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘স্ট্রেংদেনিং পাবলিক ফাইনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি” (এসপিএফএমএস) -এর অধীনে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা চৌদ্দটি কম্পোনেন্ট নিয়ে গঠিত। এগুলোর মধ্যে, আটটি কম্পোনেন্ট অর্থ বিভাগ বাস্তবায়ন করছে। অর্থ বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত আটটি কম্পোনেন্ট এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং নিরীক্ষা অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ স্কিম’-কে একটি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার চর্চা প্রসারে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০০৯ সালের ‘পাবলিক মানি এন্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট (পিএমবিএম) আইন’-এর বিধানাবলী এবং সরকারি আর্থিক তদারকির সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুসারে, সরকারি হিসাব এবং সরকারি নিরীক্ষার মতো ব্যবস্থাগুলো সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পিএমবিএম আইনের ১৯ নং ধারায় মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং সংস্থাসমূহের (এমডিএ) মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং কার্যকর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বজায় রাখার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব/ প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টিং অফিসারদের (পিএও) দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কাঠামোর অধীনে, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত কার্যক্রম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
এসপিএফএমএস কর্মসূচির অধীনে, ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। অর্থ বিভাগ ‘অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সনদ’ এবং ‘ঝুঁকি-ভিত্তিক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (আরবিআইএ) ম্যানুয়াল’ তৈরি ও জারি করেছে, যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কাঠামোগত নির্দেশনা প্রদান করে। সরকারি দপ্তরে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে, পাঁচটি উচ্চব্যায়কারী দপ্তরে (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও মহাসড়ক অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর) পরীক্ষামূলকভাবে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী দ্বারা পরিচালিত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিভিত্তিক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ম্যানুয়াল অনুসারে পাচটি মন্ত্রণালয়/বিভাগে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রমের প্রতিবেদনে প্রদত্ত পর্যবেক্ষণসমূহ পর্যালোচনা করেন এবং ফলপ্রসূ সমাধানের সুপারিশ করেন।
ঝুকিভিত্তিক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে দপ্তরসমূহ তাদের নিজ দপ্তরের ঝুঁকিগুলিকে উচ্চ, মাঝারি বা নিম্ন হিসাবে চিহ্নিত ও শ্রেণিবদ্ধ করে। এই ঝুঁকিগুলি ঝুঁকি রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হয়, যা নিরীক্ষা পরিকল্পনা এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণের ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রম সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের কার্যালয় পর্যন্ত প্রসারিত করা হয়েছে, যা ব্যাপকতর পরিধি এবং শক্তিশালী তদারকি নিশ্চিত করে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষকরা বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন এবং ঝুঁকি প্রশমন ও পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রদান করেন।
সরকারি প্রশাসনে আর্থিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসাবে সম্প্রতি অর্থ বিভাগের অধীনে একটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অনুবিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই অনুবিভাগটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ইউনিটগুলিকে কৌশলগত নির্দেশনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং তদারকি প্রদান করবে, যার মাধ্যমে সরকারের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।


